নওরোজ উৎসবের প্রার্থনা (#8474)

*(নওরোজ- “হে মহিমানি¦ত লেখনী,বলঃ হে পৃথিবীর নেতৃবৃন্দ তোমাদের জন্য নিদিষ্ট সংখ্যক (উনিশ) দিনের উপবাস বাধ্যতামূলক করিয়াছি এবং ইহা পরিসমাপ্তির পর নওরোজকে (নববর্ষের প্রথম দিনকে) তোমাদের জন্য একটি পর্ব-দিনরূপে নির্দিষ্ট করিয়াছি।’	- কিতাবে আক্বদাস।
   
	তুমি সু-প্রশংসিত হও, হে আমার প্রভু, যেহেতু তুমি নওরোজকে তাহাদের জন্য  একটি  আনন্দ-উৎসবরূপে আদেশ দান করিয়াছ যাহারা তোমার প্রেমের জন্য উপবাস-বিধি পালন করিয়াছে এবং যে সকল বিষয় তোমার নিকট ঘৃণ্য, তাহা হইতে বিরত রহিয়াছে। ইহাই অনুমোদন কর, হে আমার পরম প্রভু, যেন তোমার প্রেমের অগ্নি এবং তোমা কর্তৃক আদিষ্ট উপবাস দ্বারা সৃষ্ট উষ্ণতা  তাহাদিগকে তোমার প্রত্যাদেশ-ধর্মে উৎসাহিত করিতে পারে এবং তাহাদিগকে তোমার প্রশংসা ও তোমার স্মৃতি-কার্যে নিযুক্ত রাখিতে পারে।
	যেহেতু তুমি তাহাদিগকে সুশোভিত করিয়াছ, হে আমার পরম প্রভু, তোমার দ্বারা নির্দেশিত উপবাস-রূপ অলংকারে, অতএব, তুমি তাহাদিগকে তোমার অনুকম্পা ও বদান্যতাপূর্ণ অনুগ্রহের মধ্য দিয়া তোমার অনুমোদনরূপ অলংকারেও তাহাদের বিভূষিত  কর। কারণ মানুষের কৃতকর্মসমূহ তোমার সন্তোষের উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল এবং তোমার আদেশ সাপেক্ষ। যে উপবাসান্তে তাহা ভঙ্গ করিয়াছে, তাহাকে তুমি ঐ ব্যক্তির ন্যায় মনে করিবে যে উপবাস পালন করিয়াছে, এইরূপ লোককে তাহাদের মধ্যে গণ্য করিবে, যাহারা অনন্তকাল হইতে  উপবাস-বিধি পালন করিয়া আসিতেছে। যে ব্যক্তি উপবাস-বিধি পালন করিয়া তৎপরে উহা ভাঙ্গিয়া ফেলিয়াছে, তোমার আদেশ এইরূপ হইবে যে, সে ব্যক্তি তাহাদের মধ্যে পরিগণিত হইবে, যাহারা তোমার অবতীর্ণ প্রত্যাদেশ-বাণীর পরিচ্ছদ ধূলায় কলঙ্কিত করিয়াছে এবং এই জীবন্ত স্বর্গীয় প্রস্রবণের স্বচ্ছ সলিল রাশি হইতে অনেক দূরে অপসারিত হইয়াছে।
	তুমি তিনিই যাহার মধ্য দিয়া “সু-প্রশংসতি তুমি তোমার কার্যসমূহে” এই ধ্বজা উত্তোলিত হইয়াছে এবং  “তোমার আদেশ প্রতিপালিত হয়” এই পতাকা প্রসারিত করা হইয়াছে। তুমি তোমার এই পদবী সমন্ধে অবগত করাও, হে আমার প্রভু, তোমার সেবকদের নিকট, যেন তাহারা সতর্ক হইতে পারে যে, সকল দ্রব্যের শ্রেষ্ঠত্ব তোমার আদেশের ও তোমার বাক্যের উপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক কার্যের গুণ তোমার অনুমতি ও ইচ্ছার সন্তোষের উপর নির্ভরশীল এবং যেন তাহারা ইহা অবগত হইতে পারে যে, মানবের কার্যসমূহের বল্গা তোমার অনুমোদন ও আদেশের আয়ত্তের অধীন। তাহাদিগকে ইহা অবগত করাইয়া দাও যে, এই দিবস সমূহে, কিছুই তাহাদিগকে তোমার সুষমা হইতে দূরে রাখিতে পারে না, যে দিবসসমূহে, যীশুখ্রীষ্ট উচ্চস্বরে বলেঃ “সর্বাধিপত্য তোমারই হে তুমি পবিত্রাত্মার (যীশুর) জন্মদাতা” এবং তোমার বন্ধু (মুহাম্মদ (সঃ)  চিৎকার করিয়া বলেনঃ “সকল প্রশংসা তোমারই, হে তুমি, সর্বোচ্চ প্রিয়তম” কারণ তুমি তোমার বিভূতি অনাবৃত ও প্রকাশিত করিয়াছ এবং তোমার মনোনীত জনগণের জন্য তাহাই লিপিবদ্ধ করিয়াছ যাহা তাহাদিগকে তোমার পরম মহিমান্বিত নামের অবতরণ আসনের নৈকট্যলাভ করিতে সমর্থ করিবে, যাহার মধ্য দিয়া সকল  জাতির লোক বিলাপ করিয়াছে, কেবল তাহারা ব্যতীত যাহারা তুমি ব্যতীত আর সকল হইতে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করিয়াছে এবং নিজেদের তাঁহার দিকে অগ্রবর্তী করিয়াছে যিনি তোমার নিজের অবতরণকারী এবং তোমার গুণাবলীর ঐশী প্রকাশ।
	তিনি যিনি তোমার শাখা এবং তোমার সকল সহচর, হে আমার পরম প্রভু অদ্য তাহাদের উপাবাস ভঙ্গ ও সাঙ্গ করিয়াছে এবং তাহারা তোমার দরবার প্রাঙ্গনের সীমার মধ্যে তোমাকে সন্তুষ্ট করিবার জন্য তাহাদের অতীব ব্যগ্রতায় ইহা প্রতিপালন করিয়াছে। তুমি তাহার জন্য এবং তাহাদের জন্য এবং ঐ সকল দিবসে যাহারা তোমার নিকট উপস্থিত হইয়াছে তাহাদের সকলের জন্য, তোমার পবিত্র গ্রন্থে যে সমুদয় মঙ্গল নির্দিষ্ট করিয়াছিলে তাহা তাহাদের জন্য আদেশ কর। তাহাদিগকে অতঃপর, তাহাই প্রদান কর যাহা তাহাদের, ইহকাল ও পরকালে, উপকারে আসিবে।
	তুমি, সত্য সত্যই সর্বজ্ঞ, সর্ব বিজ্ঞ।

-Bahá'u'lláh
-----------------------

